1. admin@banglahdtv.com : Bangla HD TV :
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

প্রতিষ্ঠার ৪৪ বছর

"শেখ আল মামুন"
  • Update Time : বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২
  • ৯২ Time View

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার চার দশকে পা দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায় ও গনতন্ত্রের জন্য
সারাজীবন সংগ্রাম করা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

যে লক্ষ নিয়ে আজ থেকে চার দশক আগে এই দলের যাত্রা শুরু, সে কাঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে চার দশক ধরে এই দলকে
দিয়ে যেতে হয়েছে অনেক শ্রম ও আত্মত্যাগ। সংগ্রামের চার দশকে এই দলের অনেক নেতাকর্মীর রক্তে
রঞ্জিত হয়েছে পিচঢালা রাজপথ।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য গনতন্ত্রের জন্য সুন্দর রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যাবস্থার জন্য জাতীয়তাবাদের জন্য
এই দলের নেতাকর্মীদের দিতে হয়েছে অজস্র প্রাণ। যার শুরুটা হয়েছিলো ১৯৮১ সালের ৩০শে মে ভারতীয় মৌলবাদী দেশবিরোধী এজেন্টদের প্ররচনায় বিপদগামী সেনা সদস্যদের গুলিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জীবন দিতে হয়েছিলো,বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর উত্তম, ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের স্থপতি, বাংলাদেশের বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও রাষ্টপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান কে। সেখান থেকে শুরু,এরপর বিগত চার দশকে এই দলের জন্য নির্যাতিতদের সংখ্যা ও বেড়েছে কয়েক গুন। বাদ যায়নি মেজর জিয়াউর রহমানের প্রিয় সহধর্মিণী ও দুই পুত্র সন্তান ও। নির্যাতনের স্টিম রোলারে তার এক ছেলে হয়েছে ক্ষত বিক্ষত, আর নির্যাতনের ভয়াবহতায় আরেক ছেলেতো অভিমান করে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে। যে লক্ষ নিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে
জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপির ভিত্তি গড়তে চেয়ে ছিলেন,তার মৃত্যুর পর এক প্রকার হতাশার নিবরিত সাগরে পড়ে যায়
বিএনপি। সে হতাশায় আগুনে ঘি ঢালার মত তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন
মোহাম্মদ এরশাদ সাময়িক অভুত্থ্যানের মাধ্যমে বিচারপতি আব্দুম সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্টপতি হলে বিএনপি ক্ষমতার বাহিরে চলে যায় বিএনপি। দেশ শাসিত হতে থাকে স্বৈরাচারী ও একনায়কতন্ত্রে। তখন অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়েবিএনপি, তখন বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা অনুরোধ করার পরও জিয়াউর রহমানের
সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসতে অনিহা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে দেশের মানুষের কথা ভেবে, তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দলকে বাচাঁতে তার আদর্শকে বাচাঁতে নেতাকর্মীদের অনুরোধে তিনি ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারী বিএনপিতে যোগ দেন।

১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে পাটির চেয়ারপার্সন হিসাবে নির্বাচিত হোন। তার যুগোপযোগী নেতৃত্বের কারনেই মূলত বিএনপির পূর্ন বিকাশ হয়। তার দক্ষতা, আপোসহীন নেতৃত্বের গুনাবলি ও আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে নেতাকর্মী ও
জনগনের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

১৯৮৩ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে
আন্দোলন শুরু হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনের দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে।

১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা
এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া “এরশাদ হটাও” এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দেন। পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।
অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোষহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি বাংলাদেশের সরকার গঠন করে ও বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বাংলাদেশের মহিলা
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন। এর পরবর্তীতে তিনি তিন তিনবার বিএনপিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হোন। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য গনতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামী জীবনে তিনি সর্বমোট পাঁচ বার গ্রেফতার হয়। স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ১/১১ মঈন উদ্দিন,ফখরুদ্দীন সরকারের সময় সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকেন। ২০২০ সালের ২৫ শে মার্চ তিনি ৬ মাসের জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এতকিছুর পরও তাকে বিন্দু মাত্র দমানো যায়নি। যে সংগ্রামী জীবন,ও আপোসহীন নেতৃত্ব তিনি সারা জীবন বর দিয়ে গেছেন এদেশের আপময় জনগনের জন্য,এদেশের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য,তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে, আপোসহীন নেত্রী
হিসাবে,যতদিন বাংলাদেশ থাকবে যতদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ থাকবে।

বাংলাদেশের জন্য, মানুষের জন্য, গনতন্ত্রের জন্য তার নীতি ও আদর্শ কখনও বিচ্যুত হয়নি,তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট,ও বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক কোন ইস্যুতে আপোষ করেন নাই। তার নিতি আদর্শ দক্ষ নেতৃত্ব তাকে তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে পৌঁছে দিয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তার স্বামী মরহুম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া দলকে তিনি যে ভাবে সুসংগঠিত করে দলকে আগলে রেখেছেন,তা ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে।

এখন সে-ই দলের হাল ধরেছেন তার সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তিনি সূদুরে থেকে দেশের মানুষের জন্য,তার বাবা মায়ের রাজনৈতিক দল বিএনপিকে গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতে চালিয়ে যাচ্ছেন অক্লান্ত পরিশ্রম।বিশ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক আগামীর দেশনায়ক বিএনপির উজ্জ্বল নক্ষত্র তারেক রহমানের হাত ধরে ই গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে।মানুষ ফিরে পাবেন ভোটের অধিকার হারানো গনতন্ত্র ফিরিয়ে তিনি দেশে এসে সামনের কাতারে দাড়িয়ে বিজয় মিছিল করবেন বিশ কোটি মানুষ তারই অপেক্ষায়।

এই দল বাংলাদেশের আপময় মানুষের দল, এই দল বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবচেয়ে নির্যাতিত দল, এই দল জনগনের সবচেয়ে প্রিয় ও ভালোবাসার দল। এই দলকে নিয়ে ষড়যন্ত্র নিহাত কম হয়নি,কম হয়নি চক্রান্ত। শত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত মাটির সাথে গুড়িয়ে দিয়ে এই দল ছুটে চলেছে তার আপন গতিতে।
যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চার দশকে সে ধানের শীষ প্রতীক শুধু বিএনপির না বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তাইতো আমরা নির্ভয়ে গাইতে পারি গান,,,
“উঠবে নতুন আশার আলো
সোনালী ধানের শীষে”

“শেখ আল মামুন”
সদস্য (আহবায়ক কমিটি)
খুলনা মহানগর ছাত্রদল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 banglahdtv
Design & Develop BY Coder Boss