নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরমটুয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে করে সুধারাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার পশ্চিম চরমটুয়া গ্রামে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে অভিযুক্ত মো. শাহীন (২৭) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সে একই এলাকার সোনামিয়া পাটোয়ারী বাড়ির আবদুর রবের ছেলে। অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলো, একই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো.করিম (৩০) ও মৃত নুরনবীর ছেলে মো. হেলাল (৩০)।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী বিগত তিন বছর প্রবাসে। আগে থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা তাকে প্রায় উত্যক্ত করত। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তিনি রাতের খাবার খেয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই বাড়ির মো. শাহীন (২৭) তার অপর দুই সহযোগী করিম ও হেলালের যোগসাজশে ঘরের জানালা খুলে তার কক্ষে প্রবেশ করে তার মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় তার একটি নকিয়া সেট, একটি স্যামসাং এ- ১০ মোবাইল সেট ও দেড় ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহীনের মা লাকী বেগমকে জানালে, সে কিছু টাকা দেবে বলে তাকে চুপ থাকতে বলে। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানালে তারা বিচারে বসবে বলে কালক্ষেপণ করে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান নুর আলম তিন আসামিকে আটক করলেও ২৪ ঘণ্টা পর স্থানীয় মেম্বার বাবুল হোসেনের জিম্মায় ছেড়ে দেন। এরপর শাহীনের ভগ্নিপতি ভিকটিমের মোবাইলের সিম কার্ড ও মেমোরি কার্ড রেখে সেট দুটি ফেরত দেন বলেও ভিকটিম জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের ডেকে আনি। তখন গৃহবধূ তাকে ধর্ষণের কথা বলেনি। তাই আটককৃতদের স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয় এবং তাকে আইনের আশ্রয় নিতে অনুরোধ করি। সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার সকালে মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক শাহিনকে আটক করা হয়েছে।

পরে সন্ধ্যায় অভিযোগ করেছেন ভিকটিম। আটককৃত আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Design & Develop BY Our BD It