1. admin@banglahdtv.com : Bangla HD TV :
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

এভাবে বল প্রয়োগ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর

কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, নির্বাহী সম্পাদক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
  • ৪৩ Time View

বাংলাদেশের ইতিহাসে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে বর্তমান সরকার। পরপর তিন মেয়াদে তারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আছেন এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন বলে দাবি করেছেন। তারা উন্নয়নকেই তাদের ক্ষমতায় আরোহণের ম্যাজিক বলছে এবং উন্নয়নকেই গণতন্ত্রের চেয়ে অগ্রগণ্যতা দিয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন দল ও জোটের বাইরের সমস্ত রাজনৈতিক দল এই পরিস্থিতিকে ‘গণতন্ত্রহীনতা’ বলে দাবি করছে, যদিও তারা এর পক্ষে ব্যাপক জনমত গঠন করে কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার। এমতাবস্থায় সরকারের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োগ বা ব্যবহার নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন; সরকার কি কোনো অজানা আতঙ্কে ভুগছে, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উৎসাহী হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে? সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের এক ধরনের ভারসাম্যহীন শক্তি প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরের সালথা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আন্দোলন বা বিক্ষোভকারীদের নিহত হওয়ার ঘটনা এই প্রশ্ন তুলছে।

গত ২৬ থেকে ২৮ মে হেফাজতে ইসলামের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে সংঘটিত আন্দোলনে ১৭ থেকে ২১ জন নিহত হলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে। ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাধারণ মুসল্লিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ করতে চাইলে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে মিশে থাকা একটি মারমুখী গোষ্ঠী আক্রমণ চালায়। আর মসজিদের বাইরে থেকে সশস্ত্র পুলিশ এবং তাদের সাথে থাকা হেলমেট পরা লাঠিসোটাধারী কিছু লোক বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ করে। এই ঘটনায় পুলিশ প্রায় কয়েক হাজার রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয় বলে জানা যায়। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররাসহ জনতা সাথে সাথে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলটি হাটহাজারী থানার সামনে দিয়ে অতিক্রমকালে অতি উৎসাহী কিছু মিছিলকারী থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে থানার দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এর জবাবে পুলিশ গুলি চালালে একজন মাদরাসা ছাত্রসহ মোট চারজন নিহত হন। এর পরদিন ২৭ মার্চ হেফাজতের ডাকা ‘বিক্ষোভ দিবস’ কর্মসূচি চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাচীন মাদরাসা জামিয়া ইউনুসিয়ার ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করলে সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন ২৮ মার্চ হেফাজত সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুনরায় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের সাথে পুলিশ ও হরতালবিরোধী গোষ্ঠীর ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস-আদালত ভাঙচুর হয় এবং আরো বেশ কয়েকজন হরতালকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ফলে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ তিন দিনে ১৭ থেকে ২১ জন হেফাজতের কর্মী-সমর্থকসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শোনা যাচ্ছে ইট-পাটকেলের প্রতিক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনোটির তদন্ত হয়েছে কি-না জানা যায়নি, তবে হেফাজতের বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় নেতাসহ চার শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। দায়ের করা প্রায় এক শ’ মামলায় অর্ধলাখ জ্ঞাত-অজ্ঞাত ব্যক্তি আসামি হয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে- তিন দিনে ২০-২১ জন বিক্ষোভকারী কিভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন? একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। তাণ্ডবলীলার দায়ভার হেফাজতকে দিলে হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কার, সেটা সরকারকে চিহ্নিত করতে হবে অবিলম্বে।

গত ৫ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে একদল পুলিশ সরকার আরোপিত, করোনা সংক্রমণ নিরোধক ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে গেলে জনতার সাথে তাদের বাগি¦তণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানুষ হত্যার গুজবও ছড়ায়। প্রতিক্রিয়ায় সন্ধ্যা নাগাদ স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ মিছিল বের করে এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা আক্রমণ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ গুলি চালালে দুইজন প্রতিবাদকারী নিহত হন। জনতা তখন আরো উত্তেজিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে পাঁচটি মামলায় ২৬১ জন জ্ঞাত এবং প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এখানেও দেখা যাচ্ছে, নিহতদের বিষয়টি এড়িয়ে শুধু ভাঙচুর আমলে নেয়া হচ্ছে। আর প্রতিবাদকারী নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণের কারণ বা হতাহতের ঘটনা উদঘাটনের জন্য কোনো বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা বিচারের খবর জানা যায়নি। ফলে এক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বা ভারসাম্যহীন বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা গ্রামে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে পাঁচজন এবং পরবর্তীতে আহতদের মধ্যে আরো দুইজনসহ সাতজন শ্রমিক নিহত হন। বাঁশখালী সদর থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে ‘এস আলম’ গ্রুপের মালিকানায় চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সেফকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্র্রাকশন কোম্পানি’র সহযোগিতায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। সেখানে প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকরা মাসের ৫ তারিখের মধ্যে তাদের বেতন পরিশোধ, রমজান মাসে দৈনিক কর্মঘণ্টা ১০ থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টা এবং শুক্রবার চার ঘণ্টা করাসহ নানা দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা বিফল হওয়ার পর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্রের ৪ নম্বর গেটে বিক্ষোভ করলে দুই থেকে তিন মিনিটের মাথায় অতর্কিতে গণ্ডামারা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা গুলি ছুড়তে থাকে। ফলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন (প্রথম আলো, ১৯ এপ্রিল ২০২১)। প্রশ্ন হলো- বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপসমূহ (অনুরোধ করা, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ, লাঠিপেটা করা, উপরের দিকে ফাঁকা গুলি এবং সর্বশেষ পায়ে গুলি করা) অনুসরণ না করেই মুহূর্তের মধ্যে মারণাস্ত্র ব্যবহার কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল? তদুপরি দু’টি মামলায় ২২ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দার নামোল্লেøখ করে আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। যারা নিহত হয়েছেন তাদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে বরং শ্রমিকদেরই দোষারোপ করা চরম অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন এবং অবিশ্বাস্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে থানার সীমানার ভেতরে বালুর বস্তা দিয়ে তৈরি করা ফর্টিফাইড বা সুরক্ষিত LMG (Light Mechine Gun) পোস্টে পুলিশকে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়। পত্র-পত্রিকায় এই ছবি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। এটি একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রদর্শনের ব্যাপার। এলএমজি হলো আধুনিক পদাতিক বাহিনীর প্রতিরক্ষাযুদ্ধে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য একটি সেকশন দলের প্রতিরক্ষার মূল অস্ত্র। প্রশ্ন হলো- এই এলএমজি পোস্ট কাদেরকে ঠেকানোর জন্য? কোনো দেশে যুদ্ধাবস্থা ছাড়া একটি এলএমজি পোস্টে হুমকি দেয়ার মতো কোনো শক্তিই গণতান্ত্রিক সমাজে থাকে না। এত শক্তিশালী কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতিও এদেশে অবাস্তব। যারা মিছিল-আন্দোলন করে তারা বড়জোর ইট-পাথর মারতে পারে, তাও পুলিশের উসকানি থাকলে। এছাড়া বাকি সবাই পুলিশকে বন্ধুই মনে করে এবং বিপদে-আপদে পুলিশের কাছেই আশ্রয় চায় ও পায়। কাজেই এ ধরনের অতিরিক্ত শক্তি প্রদর্শন জনে মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে রামু, নাসিরনগর, শাল্লা প্রভৃতি স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই আক্রমণ, লুটপাট এবং জ্বালাও-পোড়াও সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের তৎপর হওয়ার কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাজেই বিভিন্ন ঘটনায় কোথাও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আর কোথাও বা একেবারেই বল ‘প্রয়োগ না’ করার বিষয়টি প্রশ্ন তুলতেই পারে। আবার ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনের সময় থেকে আরো একটি প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তা হলো- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে তাদের ফ্রন্টলাইনার হিসেবে ভূমিকা নেয়ার জন্য একটি গোষ্ঠী দেশীয় অস্ত্রসহ হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তৎপর থাকে এবং আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করে। এরা ‘হেলমেট বাহিনী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শক্তি বৃদ্ধির এই পদ্ধতিটি আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্য সম্মানজনক নয় বলে সচেতন নাগরিকরা মনে করেন। আমরা মনে করতে চাই, আমাদের পুলিশ বাহিনী যথেষ্ট পেশাদার এবং সব বিবেচনাতেই সামর্থ্য ও আত্মবিশ^াস রয়েছে তাদের। তাদের কোনো অপেশাদার সিন্ডিকেট বা গোষ্ঠীর সহায়তার প্রয়োজন মোটেই থাকার কথা নয় বলে জনগণ মনে করে।

সাম্প্রতিক আরো কয়েকটি ঘটনা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন মহলে প্রশ্ন তুলেছে। ঢাকা নগরীর একজন স্বনামখ্যাত এমপির পুত্র কিছুদিন আগে অস্ত্র ও মাদক আইনে এবং অবৈধ ওয়াকিটকি, বেতারযন্ত্র ব্যবহারের জন্য র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে র‌্যাবের সেই অভিযানে জব্দকৃত আলামত, টর্চার সেল ইত্যাদি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু পরে চার্জশিট দেয়ার সময় এই সমস্ত অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং গত ২৯ এপ্রিল তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, আগের দায়েরকৃত অভিযোগসমূহ কি অসত্য প্রমাণিত হয়েছে? তাই যদি হয়, তবে একজন নিরীহ নাগরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং তার মান-সম্মানের হানি ঘটেছে। তার এই সম্মানহানির ঘটনা বিভিন্ন প্রশ্নের সূত্রপাত করেছে। আবার গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে মুনিয়া নামে এক নারীর অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার সাথে দেশের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী গ্রুপ অব কোম্পানির এমডি জড়িত থাকার ‘আলামত মিলেছে’ বলে জানা যায়। কিন্তু ঘটনার পর দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা প্রাথমিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেই জড়িত ব্যক্তির নাম পরিচয় উল্লেখ না করে বারবার শুধু ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি’ উচ্চারণ করছিলেন। অর্থাৎ তার ব্রিফিংকালে হয়তো পরিচয় বা নাম উন্মোচনের কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল! ঘটনার কয়েকদিন পর নানা মিডিয়ার বিলম্বিত তৎপরতা দেখা গেলেও বর্তমানে এ ব্যাপারে সবাই নীরব। অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে আছেন আর তার পরিবারের স্ত্রী-সন্তান-কাজের লোক সবাই বিনা চ্যালেঞ্জে বিশেষ ভাড়া করা বিমানে দেশ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এই ধরনের নারী কেলেঙ্কারি ও অপমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদেরও মতামত অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে মৃত্যুর মূল কারণ অনুসন্ধানের চেয়ে মৃত মুনিয়া ও তার পরিবারকে নিয়ে বেশি তথ্য উদঘাটনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে (প্রথম আলো : ৮ মে ২০২১)। অথচ হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের নারায়ণগঞ্জের সেনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টের ঘটনার পরপরই জাতীয় সংসদে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও তখন পর্যন্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়নি সংশ্লিষ্ট মহিলা মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি অন্য কেউ! ইতোমধ্যে ওই মহিলার সাবেক স্বামী, বাবা, সন্তান প্রমুখ সবাইকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফেস করতে হয়েছে এবং স্ত্রীর বেশে হোটেলে বেড়াতে যাওয়া সেই মহিলা এখন তার স্বীকৃত স্বামীর বিরুদ্ধেই ‘ধর্ষণের মামলা করেছেন’। অথচ একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতার অভিযোগ উত্থাপিত হলেও সে ব্যাপারে আমরা কোনো ধরনের তদন্ত বা সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের তৎপরতা দেখিনি। এ সব ঘটনায় আমাদের গণতন্ত্র চর্চায় সামঞ্জস্যহীন অনুশীলনের প্রতিফলন হয়েছে কি-না তা নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলতে পারেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশ জনগণের বন্ধু। সকল বিপদে-আপদে অসহায় বা ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা পুলিশেরই দ্বারস্থ হন, তাদের কাছেই আশ্রয় পান। আমাদের পুলিশ বাহিনীর কাক্সিক্ষত মানের পেশাদারিত্ব রয়েছে। আর যখন পুলিশ প্রধান তার বাহিনীকে ‘দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান তখন আশান্বিত হই। কিন্তু সেজন্য পুলিশ বাহিনীকে পাহাড়-সমান সীমাবদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করে আসতে হবে। কারণ, পুলিশ নিজের ইচ্ছায় চলতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সদিচ্ছা যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিভাবে চলবে। আমাদের পুলিশ বাহিনীর গর্ব করার মতো অতীত রয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম প্রহরে ঢাকার রাজারবাগ সদর দফতরের পুলিশ বাহিনীই প্রথম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশের এক হাজার ১০০ সদস্য এই স্বাধীনতাযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা যতটুকু বজায় আছে, তাও পুলিশেরই অবদান। চলমান করোনা মহামারীতে ডাক্তারদের পর পুলিশই সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১০০ জন) প্রাণ দিয়েছেন ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণেও তারা যথেষ্ট সফলতার দাবি করে থাকেন। তাদের আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বে ঘাটতি আছে বলে মনে হয় না। কাজেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে, এই পুলিশ বাহিনীকে আমরা কিভাবে নিয়োজিত করব দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য।

লেখক : কামরুজ্জামান সিদ্দিক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 banglahdtv
Design & Develop BY Coder Boss