1. admin@banglahdtv.com : Bangla HD TV :
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

জাতিসঙ্ঘের অধীনে বাংলাদেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৫৩ Time View
জাতিসঙ্ঘের অধীনে বাংলাদেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রী - ফাইল ছবি

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহযোগিতায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ‘আমরা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত। এটা জাতিসঙ্ঘকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই।’
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এই দিনে বিশ্বের সকল শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা গর্বের সাথে স্মরণ করে একথা বলেন তিনি। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২১ উপলক্ষে শনিবার শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী দিবসের মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর তরুণ সদস্যরা ২১ শতকের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। আগামীতেও যারা আসবে তাদেরকে আমরা সেভাবেই তৈরি করতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দ্য রোড টু এ লাস্টিং পিস: লেভারেজিং দ্য পাওয়ার অব ইয়োথ ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’-কে সামনে রেখে আমরা তরুণ ও যুবশক্তিকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম নিয়ামক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কারণ আমাদের তরুণ সমাজ যেন এটা শিক্ষা গ্রহণ করে যে শান্তি একমাত্র উন্নয়ন ও নিরাপত্তার পথ। শান্তিই মানুষের কল্যাণের পথ। এই পথে যেন সকলে যেতে পারে ও সেভাবেই যেন নিজেরা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ১২২টি দেশের ৮০ হাজার ১৮৪ জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে ছয় হাজার ৭৪২ জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী রয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বে নিয়োজিত মোট শান্তিরক্ষীর ৮ দশমিক ৪০ ভাগ, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এ ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের ২৮৪ জন নারী শান্তিরক্ষী বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। বিশেষ করে আমার নারী পাইলটদের নিয়ে আমি খুব গর্ববোধ করি। কারণ আগে আমাদের সেনা-নৌ ও বিমানবাহিনীতে নারীদের কোনো স্থান ছিল না। পুলিশ বাহিনীতে অদম্য জাতির পিতাই নারী অফিসার নিয়োগ করে গিয়েছিলেন। তবে সব জায়গাতেই এখন নারীদের একটা ভালো সুযোগ রয়েছে। তারা সাফল্য দেখাচ্ছে। কাজেই আমি আমাদের মেয়েদেরকেও অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা ৪০টি দেশে ৫৫টি ইউএন মিশন সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে আটটি মিশনে আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল পদবীর কর্মকর্তা ও কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও দক্ষিণ সুদানে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীর কর্মকর্তা নিযুক্ত রয়েছেন। তাদের দক্ষতার কারণেই তারা এই পদ পেয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মিয়া সেপ্পো অনুষ্ঠানে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেজের একটি বার্তাও পড়ে শোনান।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, সেন্ট্রাল আফ্রিকা রিপাবলিক ও লেবাননে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী কন্টিনজেন্টের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।

জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ‘বাংলাদেশ ইন গ্লোবাল পিস’ শীর্ষক এবটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়। গত এক বছরে বিশ্ব শান্তি স্থাপনে শহীদ ও আহত সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পুরস্কার বিতরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গণভবন প্রান্তে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, পুলিশের আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতস সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সাবেক সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত দেশী-বিদেশী অতিথিরা সেনাকুঞ্জে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সবথেকে ভালো লাগে যেখানে যেখানে আমাদের শান্তিরক্ষীরা কাজ করেছেন ওইদেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে যখনই কোনো আন্তর্জাতিক ফোরামে দেখা হয়েছে, আমাদের শান্তিরক্ষীদের তারা ভূয়শী প্রশংসা করেছেন। গর্বে বুক আমার ভরে গেছে।’ তিনি বলেন, যে সম্মানটা আমরা পেয়েছি, তা ধরে রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন, সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে পরিচালনা করছি। ইনাশাল্লাহ বাংলাদেশ সারবিশ্বে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই গড়ে উঠবে।
শান্তিরক্ষা মিশনে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের ১৫৯ জন শান্তিরক্ষী শহীদ ও ২৪০ জন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মোৎসর্গকারী আট বাংলাদেশীকে জাতিসঙ্ঘের হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়। যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ।
সূত্র : বাসস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 banglahdtv
Design & Develop BY Coder Boss